যশোরে বালু ব্যবসায়ী বিষে হত্যা মামলায় আরো ৩ আসামি আটক - Jashore Tribune

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Friday, December 25, 2020

যশোরে বালু ব্যবসায়ী বিষে হত্যা মামলায় আরো ৩ আসামি আটক

 

যশোরে বালু ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বিষে হত্যা মামলায় আরো তিন আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলো, শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়া কবরস্থান এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে রাকিব হোসেন, লাল মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দিন ও বারান্দী মোল্যাপাড়া আমতলার লাল বাবুর ছেলে আসিফ আহম্মেদ ওয়াসিফ।              

শহরের বাদী আরবপুর তালপট্টির মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে নিহত আমিনুর রহমান বিষে বালুর ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক সূত্রে আসামি সাগরের সাথে তার লেনদেন হয়। সে কারণে সাগরের কাছে বেশ কিছু টাকা পেতেন বিষে। ওই টাকা চাওয়া নিয়ে সাগরের সাথে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সাগর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার ফেরদাউস হোসেনের স্মরণাপন্ন হন। ফেরদাউস বিষেকে খুন করার পরামর্শ দেন। ২১ ডিসেম্বর সকালে বিষে বালু ক্রয় করার জন্য ভেকুটিয়া গ্রামে যান। এসময় সাগরের সাথে দেখা হলে পাওনা দেয়ার জন্য বলেন বিষে। টাকা চাওয়ায় বিষের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে খুন করার হুমকি দেন সাগর। এরপর বিষে সেখান থেকে বাড়ি ফিরে চলে আসেন। কিন্তু সাগর অন্য আসামির সাথে নিয়ে বিষেকে খুন করার জন্য ফেরদাউসের সাথে শলাপরামর্শ করে। একইদিন বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে বাড়ি থেকে গোসল করে আরবপুর মোড়ে আসলামের হোটেলে ভাত খেতে যান। এরই মধ্যে ফেরদাউসের কথামত সাগর, আকাশ, তরিকুল, নাইম ও রুবেলসহ আরো কয়েকজন সেখানে ধারালো ও দেশিয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হোটেলের মধ্যে যায়। এসময় ফেরদাউসের হুকুমে সকল আসামি বিষের শরীরে একাধিক স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এসময় বিষের চিৎকারে সিরাজুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও হোটেল মালিক আসলাম হোসেন এগিয়ে এলে ওই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে চলে যায়। এরপর তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই ব্যাপারে নিহতের ভাই শুভ হাওলাদার বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই ৬ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় গত মঙ্গলবার তরিকুল ইসলাম কর্ণ, তাহসিনুল ইসলাম নাঈম ও আশরাফুল ইসলাম আকাশকে পুলিশ আটকের পর আদালতে সোপর্দ করেছে। এরপর বুধবার রাতে রাকিব হোসেন, নাসির উদ্দিন ও আসিফ আহম্মেদ ওয়াসিফকে আটকের পর বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। তারা তিনজনই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

এছাড়া এই হত্যাকা-ের মূল কিলার সাইফুল ইসলাম সাগরকেও বুধবার আটকের গুঞ্জন উঠলেও বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। আর মাস্টার মাইন্ড ফেরদাউস এখনো আটক হয়নি। অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, এদিনে আটক নাসির উদ্দিনের সাথে বছর খানেক আগে বালিয়া ভেকুটিয়ার সাইফুল ইসলাম সাগরের পরিচয় হয়। সেই সূত্রে বিষেকে হত্যার জন্য নাসির উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ভাড়া করে নিয়ে এই হত্যাকা- ঘটানো হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad