সনদ সর্বস্ব শিক্ষা থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি - Jashore Tribune

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, November 14, 2020

সনদ সর্বস্ব শিক্ষা থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

 


সনদ সর্বস্ব শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি বলেছেন, গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় আনন্দ নিয়ে আসতে চাই। সংখ্যায় নয়, শিক্ষায় গুণে ও মানের দিকে নজর দিতে হবে। এখন আর শুধু সুনাগরিক বা সুশিক্ষিত হলেই চলবেনা, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বনাগরিক হিসাবে  গড়ে তুলতে হবে  আজ দুপুরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শেখ রাসেল জিমনেসিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে ডা. দীপু মনি,  যবিপ্রবিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টারের সামনে বৃক্ষ রোপন এবং শেখ রাসেল জিমনেসিয়াম উদ্বোধন করেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে  শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আরও  বলেন, আধুনিক শ্রম বাজারে দিনদিন  প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।সে কারণে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও সানুগ্রহ নির্দেশনায় আমরা  দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। এ কাজগুলো গতানুগতিক চিন্তা বা শিক্ষা ব্যবস্থায় হবে না। সব জায়গায় আমাদের একটু ‘আউট অব বক্স’ চিন্তা করতে হবে।

তিনি বলেন, সে জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা শুধুমাত্র পড়াশোনা করাচ্ছি, পরীক্ষা দিচ্ছি ও সনদ দিচ্ছি। এমনিতেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা পরীক্ষা নির্ভর এবং সনদ সর্বস্ব। সেই সাআথে  আনন্দহীন। সেটি প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তাই,  আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় আনন্দ নিয়ে আসতে চাই। আনন্দ নিয়ে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সততা, মানবিকতা, দেশপ্রেম না থাকে তাহলে সে শিক্ষা সত্যিকারের শিক্ষা নয়। জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধের সম্বন্বয়ে সত্যিকারের বিশ্ব নাগরিক তৈরি করা হবে। প্রায়শই শোনা জায় গ্রাজুয়েটরা বলেন চাকুরি খুজে পাচ্ছেনা। আবার চাকরি দাতারা বলছেন তারা দক্ষ জনবল পাচ্ছেনা। এদায় শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার। কারণ আমরা তাদের এসব দক্ষতা দিয়ে তৈরি করতে পারছি না।

 শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি হলে উন্নয়নের বাহন। কাজেই নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে হবে। শুধু উদ্ভাবন করলেই হবে না, এটার যেন সঠিক প্রয়োগ হয়, সেটাও আমাদের দেখতে হবে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে এবং এর সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ঘটাব, ইনশাল্লাহ। তিনি নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের প্রশংসা করেন।

যশোরের উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদানের কথা উল্লেখ করে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পস-২০১৯ এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ জিমনেসিয়ামটি ঢাকার ইনডোর স্টেডিয়ামের সমকক্ষ। সরকারের কাছ থেকে যে সুবিধা পাচ্ছি, তা সত্যিকারভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সরকারের সার্বিক সহযোগিতা।আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যে আগ্রযাত্রা আজ শুরু হয়েছে, আরও সহযোগিতা পেলে আমরা অতি দ্রুত তার পূর্ণতা দিতে পারব। এ সময় তিনি যবিপ্রবির সম্প্রাসারণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণসহ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

যবিপ্রবির ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মোঃ নাসিম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, যশর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ,  যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মজিদ, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব, পরিচালক (শরীর চর্চা শিক্ষা দপ্তর) ড. মোহাম্মদ তোফায়েল আহম্মেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা  আমীর হোসেনসহ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির যবিপ্রবির বিভিন্ন গবেষণাগার, ভবন ও নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন।  

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad