এক শার্টে ৩০ বছর পার, ডা. জাফরুল্লাহ’র পরেন ছেঁড়া প্যান্ট! - Jashore Tribune

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Sunday, September 6, 2020

এক শার্টে ৩০ বছর পার, ডা. জাফরুল্লাহ’র পরেন ছেঁড়া প্যান্ট!

 


গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাক্ষাতকারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ৩০ বছর ধরে একটা শার্ট পরছেন তিনি। আবার একটি ছেঁড়া প্যান্টও মাঝে মধ্যেই পরেন। সাক্ষাতকারের সময় প্যান্টের ছেঁড়া অংশ(সেলাই করা) সাক্ষাতকারগ্রহণকারীকে দেখান তিনি। বিলাসী জীবন-যাপনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা করেননি। কেন তিনি এমন সাধারণভাবে চলাফেরা করেন। তা ব্যাখ্যা করেছেন ওই ভিডিও সাক্ষাতকারে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)  সাংবাদিক জহিরুল হক মিলু সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি এ তথ্য জানান। জহিরুল হক মিলু তার নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও আপ করেন। এরপরই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে দেখেছি এ দেশের মানুষ খালি পায়ে চলতো। আমার পুরা প্যান্ট তো ছিঁড়ে নাই, এতটুকু ছেঁড়ার জন্যে কি আমি এ প্যান্ট ফেলে দেবো? আমার শরীরের টি শার্টের বয়স ৩০ বছর। এই শার্ট যদি না ছিঁড়ে তাহলে আমি কি ছিঁড়ে ফেলবো? দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা দেখে তিনি সাধারণ বেশভূষায় চলতে পছন্দ করেন।

সাক্ষাতকারগ্রহণকারী সাংবাদিক জানতে চান আপনি তো বিলাসবহুল একটা গাড়িতে চলতে পারেন। আপনি ছোটো খাটো ভাঙাচোরা একটা গাড়িতে চড়েন কেন?

এর জবাবে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘যখন বিলেতে ছিলাম তখন সব রকম লাক্সারি জীবন যাপন করেছি। তখন আমার প্লেন চালানোর লাইসেন্স ছিল। তখনকার সময়ে আমার ক্রেডিট কার্ড ছিল। তখন ক্রেডিট কার্ডের নাম কেউ শুনেছে?

তিনি জানান, লন্ডনে থাকা অবস্থায় সেখানকার রাজ পরিবারের প্রিন্স চার্লস যে টেইলারে স্যুট সেলাই করতেন, তার স্যুটও সেখানকার দর্জি সেলাই করে দিত। এসে তার জামার মাপ নিয়ে যেতেন।

তিনি বলেন, এখন এসে বুঝি সেসব একটা ছেলে-মানুষি ছিল। ওয়েস্ট অফ মানি। অথচ এই টাকা দিয়ে আমি কতজনের উপকার করতে পারতাম।

বাংলাদেশের খুব পরিচিত একটি নাম। ডা. জাফরুল্লাহ ১৯৭১ সালে রণাঙ্গনে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে যেমন প্রাণ বাঁচিয়েছেন অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার। তেমনি এই একুশ শতকে বৃদ্ধ বয়সে এসেও করোনা বিরুদ্ধে লড়ছেন।

জাতির যেসব সূর্যসন্তান আজকের এই স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তাদের অন্যতম তিনি।

স্বাধীন দেশে তিনি হতে পারতেন দেশসেরা সার্জন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন চিকিৎসাখাতের ‘প্রধান ব্যবসায়ী’। কিন্তু ভিন্নভাবে গড়ে ওঠা এক লড়াকু মানুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। স্বাধীন দেশে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন গণমানুষের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে।


No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad