৭ বছরে ২ হাজার ৪৫০ বিঘা জমির মালিক রাজাকারের দুই ভাগ্নে - Jashore Tribune

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Monday, September 14, 2020

৭ বছরে ২ হাজার ৪৫০ বিঘা জমির মালিক রাজাকারের দুই ভাগ্নে

 


ফরিদপুরের খোকন রাজাকারের ভাগ্নে নিজেরাও ছিলেন বি এন পি র ক্যাডার। সেখান থেকে আওয়ামীলীগে ফেরেন দুই ভাই বরকত ও রুবেল।

গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বরকত-রুবেল গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী।

ফরিদপুরের দুইভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মামা ও খালু ছিলেন রাজাকার। ১৯৯৪ সালে তারা ছিলেন বি এন পি তে। ২০১১ সালে যোগ দেন আওয়ামীলীগে। রাতারাতি বরকত বনে যান শহর আওয়ামীলীগ নেতা আর রুবেল প্রেসক্লাবের নেতা।মাত্র ৭ বছরে ২৪৫০ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন তারা।


বরকত-রুবেল গড়ে তোলেন হেলমেট ও হাতুড়ি বাহিনী। হেলমেট বাহিনীর দায়িত্ব দেন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীম ও হাতুড়ি বাহিনীর দায়িত্ব দেন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জীবনকে। বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেশি ভাগ টেন্ডার নিজেদের করে নিতেন। অন্যদের কাছ থেকেও নিতেন ২-১৪% কমিশন।


এসব জানার পর গত জুনে বরকত-রুবেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে দুই ভায়ের নামে মামলা করে সিআইডি। দুই ভাই সহ একে একে গ্রেফতার হন নয় জন। যারা সকলে ফরিদপুরের আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, নাজমুল ইসলাম লেভী, নিশান মাহমুদ শামীম, বিল্লাল হোসেন ও আশিকুর রহমান ফারহান।

সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার জানান, বরকত-রুবেল দুই ভাই এলাকায় টেন্ডারবাজি, অবৈধ বিস্তার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ভূমি দখল সহ নানা ধরনের অপরাধে যুক্ত ছিলেন তারা। তিনি আরও জানান, প্রায় ২৪ টি এজেন্সিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কোথায় কতটুকু সম্পদ তাদের আছে তা খুজে বের করার জন্য।

এ পর্যন্ত দুই ভাইয়ের ৪৮৫টি জমির দলিল খুজে পেয়েছেন সিআইডি। যাতে ২৪৫০ বিঘা জমির হিসাব মিলেছে। আরও আছে একটি সংবাদপত্র, সাউথ লাইন নামে ৩৪ টি বাস, ৩ টি পেট্রোল পাম্প, ২টি কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান, ১০ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা জুড়ে বাগান বাড়ি সহ বিপুল সম্পদ।


এই সব সম্পদের বিপরীতে ৪৫ টি ব্যাংক ঋন দিয়েছে ১০০ কোটি টাকা। সিআইডি থেকে আরও জানানো হয়, তারা অল্প সময়ে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন ২৮-৩০ জন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায়। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও পৌর মেয়র।

এছাড়াও অর্থ পাচার ও হত্যামামলাসহ ১৫ মামলার সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad