নতুন সিদ্ধান্ত যশোর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দোকানপাট খুলবে পণ্যভিত্তিক রোটেশনে রুটিন অনুযায়ী - Jashore Tribune

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, June 11, 2020

নতুন সিদ্ধান্ত যশোর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দোকানপাট খুলবে পণ্যভিত্তিক রোটেশনে রুটিন অনুযায়ী

যশোর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দোকানপাট ক্যাটাগরিভিত্তিতে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দোকান সপ্তাহে দুইদিন করে খোলা রাখার ব্যবস্থা হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউজে ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া আজকের সভায় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে রয়েছে, শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। ছোট এই গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
অন্যদিকে, অভয়নগরের নওয়াপাড়া শহরসহ যেসব এলাকায় করোনা রোগী দ্রুত বাড়ছে, সেসব স্থান লকডাউন করা হবে।
জেলাজুড়ে বাইরে বেরুনো লোকজনকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জোরদার করা হবে। ব্যাংক, পোস্ট অফিসসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেন স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়, দরকারি উদ্যোগ নেওয়া হবে সেবিষয়েও।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যশোর শহরের বাজার এলাকায় কোনোভাবেই মানুষের ভিড় কমানো যাচ্ছে না। সেই কারণে রোটেশনভিত্তিতে দোকানপাট খোলা রাখার কথা হয়েছে। ট্রায়াল বেসিসে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এক্ষেত্রে পৌরসভার মেয়র ও প্রেসক্লাব সভাপতি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি দাঁড় করাবেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, দোকানপাট খোলা থাকবে সপ্তাহের ছয়দিন। কিন্তু কোনো দোকান ছয়দিনই খোলা থাকবে না। এক্ষেত্রে পণ্যভিত্তিক রোটেশন তৈরি করা হবে। ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো এই প্রস্তাব তৈরি করবে। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু এই বিষয়ে বলেন, ‘ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকে সপ্তাহের ছয়দিন। বাজারে নানা ধরনের দোকানপাট আছে। এক্ষেত্রে পণ্যের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি তৈরি করা হবে। এক ধরনের দোকান হয়তো সপ্তাহে দুইদিন করে খোলা থাকবে।’
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কম্পিউটার বা ইলেট্রনিক্সের দোকান যদি শনি ও রোববার খোলা থাকে, পোশাকের দোকান হয়তো সোম ও মঙ্গলবার খোলা থাকবে। এভাবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। সভার এই সংক্রান্ত বিষয়াদি ইতিমধ্যে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে এটি কার্যকর করা হবে।
ইজিবাইক চলাচল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘যশোর পৌরসভার তালিকাভুক্ত ইজিবাইক আছে প্রায় তিন হাজার। রেজিস্ট্রেশন নাম্বার অনুযায়ী প্রথম দেড় হাজার হয়তো আজ চললো। তাহলে দ্বিতীয় দেড় হাজার চলবে আগামীকাল।’
ইজিবাইকে এখন যেভাবে যাত্রী পরিবহন করা হয়, সেক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় পৌরসভার কর্মীরা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন। বিষয়টি জনসাধারণকে জানানোর জন্য শহরে মাইকিং করা হবে।
মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কীভাবে বাধ্য করা হবে জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, শহরের মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করতে তারা কাজ করবেন। দরকার হলে আইনের প্রয়োগও করা হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad