যশোর শহরের এমকে রোডের ‘তন্নী টেলিকম’ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গভীর তদন্ত ও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল ডিবি পুলিশ তন্নী টেলিকম থেকে আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ আটক করে। পরে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফুটেজে দেখা যায়, অভিযানের ঠিক আগে এক ব্যক্তি শপিং ব্যাগ হাতে দোকানে প্রবেশ করে সেটি রেখে বেরিয়ে যান।
বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্তে নামে ডিবির একটি চৌকস টিম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালাউদ্দিন খান সিসিটিভি ফুটেজ ও আটক আলী হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে খালিদুর রহমান টিটু (৩৩) এবং পরে শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস (৪০)-কে গ্রেফতার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস স্বীকার করেন, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে ব্যাগ হাতে দোকানে প্রবেশ করা ব্যক্তিটি তিনিই ছিলেন। তারা একটি সংঘবদ্ধ অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য এবং পরিকল্পিতভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেখানে অস্ত্রটি রেখে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। খালিদুর রহমান টিটুর নামে যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরকসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। আলী হোসেনের বিরুদ্ধেও পূর্বে একটি অস্ত্র মামলা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা যশোরে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস ও খালিদুর রহমান টিটু আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

No comments:
Post a Comment